প্রশ্ন: ৪২
উত্তর:
অনেকে অভিযোগ
করেন,
মনুসংহিতা সামগ্রিকরূপে একটি নারীবিরোধী শাস্ত্র।
স্মরণ
রাখা প্রয়োজন,
পণ্ডিত ও বিদ্বান
সমাজ একথা বহুবার
স্বীকার করেছেন
যে,
মনুসংহিতা নামক
স্মৃতিশাস্ত্রটি
তে বহু প্রক্ষিপ্ত
অংশ রয়েছে। এর
মানে এই যে,
জাতিগত বা সময়গত
বিশেষ বিশেষ
উদ্দেশ্যে এই
পবিত্র
গ্রন্থটিতে অনেক
কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে।
শ্লোক রচনার গঠন
রীতির আধুনিকতা ও
প্রাচীনতা বিবেচনা করে এই
জাল
শ্লোকগুলো আলাদা করা খুব
কঠিন কিছু নয়।
আদি মনুসংহিতা শাস্ত্রটি অধ্যয়ন
করলে যে কেউ
গর্বভরে দাবি করতে পারবেন
যে,
পৃথিবীতে নারীকে মর্যাদা দানে মহর্ষি মনুর
মতো এতো চমৎকার
সব বিধান আর কোন
ধর্মনেতা কোন
কালেই প্রদান
করেননি।
এমনকি মনুসংহিতার
সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ
হতে হলে অনেক
ক্ষেত্রে আধুনিক
নারীবাদীদের
চিন্তাধারারও
উন্নয়নের প্রয়োজন।
এখানে অত্যন্ত
সংক্ষেপে মনুস্মৃতির
আলোকে বিষয়টা আলোচনা করা হলো।
আমরা এখন এমন
একটি শ্লোক পড়ব
যার অর্থ
দ্ব্যর্থহীনভাবে
ঘোষণা করে যে নারীরাই
হচ্ছে কোন উন্নত
সমাজের
ভিত্তিস্বরূপ।
এটি মনুসংহিতার
তৃতীয় অধ্যায়ের
(ধর্মসংস্কার
প্রকরণ) শ্লোকঃ
যত্র নার্য্যস্তু
পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র
দেবতাঃ।
যত্রৈতাস্তু ন
পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলা
ঃ ক্রিয়াঃ।।
(মনুসংহিতা ৩/৫৬)
অর্থাৎ
“যে সমাজে নারীদের
যথাযথ শ্রদ্ধা ও
সম্মান প্রদর্শন
করা হয় সেই সমাজ
উত্তরোত্তর
সমৃদ্ধি লাভ করে।
আর যারা নারীদের
যোগ্য সম্মান
করে না, তারা যতই
মহৎ কর্ম করুক
না কেন, তার সবই
নিষ্ফল হয়ে যায়।”
এটি নারীদের
প্রতি কোন
চাটুকারিতা বা তোষামদি নয়।
এটি এমন একটি সত্য
যা নারীবিদ্বেষীদের
কাছে বিষের মতো,
আর নারীশক্তির
মহিমা কীর্তনীয়াদের
কাছে অমৃতস্বরূপ।
প্রকৃতির এই নিয়ম
পরিবার, সমাজ,
ধর্মগোষ্ঠী,
জাতি বা সমগ্র
মানবতার
ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য।
যারা মনুস্মৃতিকে দোষারোপ
করেন, তারা কখনোই
এই শ্লোকের
উদ্ধৃতি দেন না।
উদ্দেশ্যপ্রণোদি
তভাবে শুধুমাত্র
হিন্দুধর্ম
সম্পর্কে কুৎসা প্রচারই
তাদের একমাত্র
কাজ। নিরপেক্ষ
বিচার তাদের
কাছে নেই। যেমন
নিচের চমৎকার
শ্লোকগুলোর
কথা কোন ব্লগার
বা হিন্দুধর্মের
সমালোচক উল্লেখ
করেন না:
“একজন পিতা, ভাই,
পতি বা দেবর
তাদের কন্যা, বোন,
স্ত্রী বা ভ্রাতৃবধুকে মৃদুবাক্য,
ভদ্র ব্যবহার ও
উপহারাদি দ্বারা খুশি ও
সন্তুষ্ট রাখবেন।
যারা যথার্থ
কল্যাণ ও
উন্নতি চান,
তারা নিশ্চিত
করবেন যে, তাদের
পরিবারের
নারীরা যাতে সর্বদা খুশী থাকেন
এবং কখনো দুর্দশা ভোগ
না করেন”।
(মনুসংহিতা ৩/৫৫)
“যে বংশে ভগিনী ও
গৃহস্থের
স্ত্রী (নারীকূল)
পুরুষদের কৃতকর্মের
জন্য দুঃখিনী হয়,
সেই বংশ অতি শীঘ্র
ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আর
যে বংশে স্ত্রীলোকেরা সন্তুষ্ট
থাকে, সেই বংশ
নিশ্চিতভাবেই
শ্রীবৃদ্ধি লাভ
করে”।
(মনুসংহিতা ৩/৫৭)
ভেবে দেখুন,
পরিবারের সুখ-
শান্তি-সমৃদ ্ধির
জন্য এর চেয়ে বড়
কথা আর
কি হতে পারে?
এখানে পুরুষতান্ত্রিকত
া চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
নারীকে সর্বদা সুখী রাখতে হবে -
এটাই মহর্ষি মনুর
নির্দেশ।
“যে স্বামী তার
স্ত্রীকে সন্তুষ্ট
রাখে না, সে তার
সমগ্র পরিবারের
জন্য
দুর্দশা বয়ে আনে।
আর
যদি স্ত্রী পরিবারের
প্রতি সুখী থাকেন,
তবে সমগ্র পরিবার
শোভাময়
হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৩/৬২)
“যে বংশকে উদ্দেশ্য
করে ভগিনী, পত্নী,
পুত্রবধূ
প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা অনাদৃত,
অপমানিত
বা বৈষম্যের
শিকার
হয়ে অভিশাপ দেন,
সেই বংশ বিষপান
করা ব্যক্তি ন্যায়
ধন-পশু প্রভৃতির
সাথে সর্বতোভাবে বিনাশপ্রাপ্ত
হয়।” (মনুসংহিতা ৩/৫৮)
পুরুষতান্ত্রিক
যে সমাজে নারীনির্যাতন
নিত্যনৈমিত্তিক
ব্যাপার,
নারীকে যথেচ্ছা সম্ভোগ,
প্রহার
বা তাড়িয়ে দেওয়ার
বিধানও যে সমাজ
অনুমোদন করে, সেই
সমাজ যে ক্রমেই
বিনাশপ্রাপ্ত হবে -
এটাই
তো স্বাভাবিক।
বিশ্বের
প্রতিটি নারীর
ব্যক্তিগত জীবনের
সুরক্ষা,
নিরাপত্তা ও
সর্বাঙ্গীন মঙ্গলের
লক্ষ্যে, নারীর
অপমান ও বৈষম্যের
বিরুদ্ধে মহর্ষি মনু
যে দৃপ্ত
বাণী উচ্চারণ
করেছেন,
তাতে তো মনুকে বরং কট্টর
নারীবাদী বলেই
মনে হয়, তাই না?
“যারা ঐশ্বর্য
কামনা করে,
তারা স্ত্রীলোকদের
সম্মান প্রদর্শন
দ্বারা খুশী রাখবে এবং উত্তম
অলংকার, পোশাক ও
খাদ্যদ্বারা প্রীত
রাখবে।
স্ত্রীজাতিকে সর্বদা পবিত্র
হিসেবে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করবে।” (মনুসংহিতা ৩/৫৯)
শ্লোকটিকে খুব
নারীবাদী মনে হতে পারে,
তবে মহর্ষি মনু
মোটেও
পুরুষতান্ত্রিক
বা নারীবাদী কোনটাই
নন,
তিনি মানবতাবাদী।
মনে রাখবেন ‘মনু’
শব্দ থেকেই ‘মানব’
ও ‘মানবতা’ শব্দের
উৎপত্তি।
“স্ত্রী লোকেরা সন্তানাদি প্রসব
ও পালন করে থাকে।
তারা নতুন প্রজন্ম
বা উত্তরসুরির জন্ম
দেয়। তারা গৃহের
দীপ্তি বা প্রকাশস্বরূপ।
তারা সৌভাগ্য ও
আশীর্বাদ বয়ে আনে।
তারাই গৃহের
শ্রী।” (মনুসংহিতা ৯/২৬)
আজও
ভারতবর্ষে মহর্ষি মনুর
এই শ্লোক থেকেই
শিক্ষা নিয়ে মেয়েদের
‘ভাগ্যশ্রী’, ‘ঘরের
লক্ষ্মী’
বা ‘গৃহলক্ষ্মী’
বলা হয়।
“প্রজন্ম
থেকে প্রজন্মোন্তরে স্ত্রীরাই
সকল সুখের মূল।
কারণ, সন্তান
উত্পাদন, ধর্ম
পালন, পরিবারের
পরিচর্যা, দাম্পত্য
শান্তি এসব কাজ
নারীদের দ্বারাই
নিষ্পন্ন
হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৯/২৮)
অন্যকথায়, মাতৃরূপে,
কন্যারূপে,
স্ত্রীরূপে,
ভগ্নীরূপে কিংবা ধর্মকর্মে অংশীদাররূপে নারীরাই
সকল কল্যাণের মূল
উত্স বলে মহর্ষি মনু
প্রতিপাদন
করেছেন।
“পতি ও পত্নী মৃত্যু
পর্যন্ত
একসাথে থাকবেন।
তারা অন্য কোন
জীবনসঙ্গী গ্রহণ
করবেন
না বা ব্যাভিচার
করবেন না। এই
হলো নারী-পুরুষের
পরম
ধর্ম।” (মনুসংহিতা ৯/১০১)
“নারী ও পুরুষ
একে ভিন্ন
অপরে অসম্পূর্ণ।
এজন্য
বেদে বলা হয়েছে ধর্মকর্ম
পত্নীর
সাথে মিলিতভাবে কর্তব্য”।
(মনুসংহিতা ৯/৯৬)
এই শ্লোকটির
কথা একবার
ভেবে দেখুন।
নারী ছাড়া পুরুষ
অসম্পূর্ণ
একথা শুধুমাত্র
হিন্দুধর্মই
বলে থাকে।
নারী ছাড়া পুরুষের
ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ হয়
না। বৈদিক যজ্ঞ ও
ধর্মপালন স্বামী-
স্ত্রী যুগ্মভাবে করতে হয়,
কেউ
একাকী করতে পারেন
না। একারণেই
নারীকে বলা হয়
পুরুষের
‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও
‘সহধর্মিনী’।
উল্লেখ্য,
মনুসংহিতাই
একমাত্র ধর্মশাস্ত্র
যেখানে এই
বিখ্যাত
কথা দুইটি অনুমোদন
করা হয়েছে। সঙ্গত
কারণেই
হিন্দুধর্মে বিবাহবিচ্ছেদ
এবং বহুবিবাহ
করতে নিষেধ
করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অন্য
ধর্মে নারী পুরুষের
অর্ধাঙ্গিনীও নয়,
সহধর্মিনীও নয়। এই
কথা মানতে নারাজ
হলে একটি মাত্র
দৃষ্টান্ত দিচ্ছি-
মসজিদে নারী-পুরুষ
কি একসাথে নামাজ
পড়া সম্ভব?
এমনকি নিজ গৃহেও
স্বামী-
স্ত্রী কি একসাথে নামাজ
পড়তে পারেন?
স্বয়ং বিবেচনা করুন।
এবার নারীদের
স্বাতন্ত্রের কথায়
আসা যাক। স্মর্তব্য,
স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলা নয়,
স্বাতন্ত্র্য মানেই
ঔদ্ধত্য নয়।
“যে স্ত্রী দুঃশীলতা হেতু
নিজে আত্মরক্ষায়
যত্নবতী না হয়,
তাকে পুরুষগণ
ঘরে আটকে রাখলেও
সে ‘অরক্ষিতা’
থাকে। কিন্তু
যারা সর্বদা আপনা-
আপনি আত্মরক্ষায়
তত্পর, তাদের কেউ
রক্ষা না করলেও
তারা ‘সুরক্ষিতা’
হয়ে থাকে। তাই
স্ত্রীলোকদের
আটকে রাখা নিষ্ফল।
স্ত্রীজাতির
নিরাপত্তা প্রধানত
তাদের নিজস্ব
সামর্থ্য ও
মনোভাবের উপর
নির্ভরশীল।” (মনুসংহিতা ৯/১২)
এই
শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে,
নিরাপত্তার
নামে নারীকে ঘরে আটকে রাখা নিষ্ফল।
বিপরীতক্রমে তাকে নিরাপদ
রাখতে হলে তাকে অধিকার
দিতে হবে এবং সঠিক
শিক্ষা-
দীক্ষা প্রদান
করতে হবে। নারীর
সামর্থ্য ও
প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করতে হবে,
মানবিক বিকাশ
সাধনে তৎপর
হতে হবে, যার
ফলশ্রুতিতে তারা যেন
আত্মরক্ষায় তৎপর
থাকেন, নিজেদের
পরিপূর্ণ মানুষ
হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
নারী জাতি সম্পর্কে এই
হলো মহর্ষি মনুর
মতাদর্শ।
“নারী অপহরণকারীদের
মৃত্যুদণ্ড
হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩২৩)
“যারা নারী, শিশু ও
গুণবান পণ্ডিতদের
হত্যা করে, তাদের
কঠিনতম
শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৯/২৩২)
“যারা নারীদের
ধর্ষণ
করে বা উত্যক্ত
করে বা তাদের
ব্যাভিচারে প্ররোচিত
করে তাদের এমন
শাস্তি দিতে হবে যাতে তা অন্যদের
মধ্যে ভীতি সঞ্চার
করে এবং কেউ
তা করতে আর সাহস
না পায়।” (মনুসংহিতা ৮/৩৫২)
ইভটিজিং এখন
প্রধান
একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে,
যার বিরুদ্ধে কঠোর
কোন শাস্তির
ব্যবস্থা নেই। কিন্তু
ইভটিজিং, অপহরণ ও
ধর্ষণের
দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির বিধান
কিন্তু সেই মনুর যুগ
থেকেই প্রচলিত
ছিল।
“যদি কেউ মা,
স্ত্রী বা কন্যার
নামে মিথ্যা দোষারোপ
করে তবে তাকে শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/২৭৫)
অথচ নারীকে এই
মিথ্যা দোষারোপ
করেই প্রতিবছর
হাজার হাজার
নারীকে ‘অনার
কিলিং’ করা হয়।
অর্থাৎ হিন্দুধর্মের
বিপরীত বিধানও
অনেক
সমাজে প্রচলিত
আছে।
“যদি কেউ কোন
ন্যায়সঙ্গত কারণ
ছাড়া মা, বাবা,
স্ত্রী বা সন্তান
ত্যাগ করে,
তাকে কঠিন দণ্ড
দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩৮৯)
ভেবে দেখুন, পথে-
ঘাটে যত অনাথ শিশু
দেখেন, যত
নিশিকন্যা দেখেন,
যত পিতৃ-মাতৃতুল্য
বৃদ্ধ
বা বৃদ্ধাকে হাত
পেতে ভিক্ষা করতে দেখেন,
তাদের
মাঝে কতজনকে আপনি হিন্দু
দেখেছেন?
হিন্দুদের মানবিক
মূল্যবোধ অন্যদের
চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়
কি? নিজেই বিচার
করুন।
“যদি কোন
নারীকে সুরক্ষা দেবার
জন্য পুত্র বা কোন
পুরুষ
পরিবারে না থাকে,
অথবা যদি সে বিধবা হয়ে থাকে,
যে অসুস্থ অথবা যার
স্বামী বিদেশে গেছে,
তাহলে রাজা তার
নিরাপত্তা নিশ্চিত
করবেন। যদি তার
সম্পত্তি তার কোন
বন্ধু বা আত্মীয় হরণ
করে,
তাহলে রাজা দোষীদের
কঠোর
শাস্তি দেবেন
এবং সম্পত্তি ঐ
নারীকে ফেরত
দেবেন।” (মনুসংহিতা ৮/২৮-২৯)
অর্থাৎ নারীর
নিরাপত্তা বিধান
ও অধিকার
সংরক্ষণে দেশের
সরকারকেও
সদা তৎপর
থাকতে হবে।
“নববিবাহিতা বধূ,
কন্যা এবং গর্ভবতী মহিলাদের
অতিথি ভোজনের
পূর্বেই ভোজন
প্রদান
করতে হবে।” (মনুসংহিতা ৩/১১৪)
“বাহনে বা যানে আরোহী ব্যক্তির
পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তি,
ক্লান্ত ব্যক্তি,
ভারবাহী ব্যক্তি,
বর, রাজা, স্নাতক
এবং স্ত্রীলোকদের
পথ
ছেড়ে দেয়া কর্তব্য।” (মনুসংহিতা ২/১৩৮)
এই মানবিক
ভদ্রতা জ্ঞানটুকু আর
কোন শাস্ত্রে আছে?
Ladies First
তত্ত্বটা কিন্তু
তাহলে বিদেশী নয়,
বরং ভারতীয়
রীতি বলেই
প্রতীয়মান হচ্ছে।
Friday, March 7, 2014
মনুসংহিতায় নারীর মর্যাদা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
প্রশ্ন: ৪২
উত্তর:
অনেকে অভিযোগ
করেন,
মনুসংহিতা সামগ্রিকরূপে একটি নারীবিরোধী শাস্ত্র।
স্মরণ
রাখা প্রয়োজন,
পণ্ডিত ও বিদ্বান
সমাজ একথা বহুবার
স্বীকার করেছেন
যে,
মনুসংহিতা নামক
স্মৃতিশাস্ত্রটি
তে বহু প্রক্ষিপ্ত
অংশ রয়েছে। এর
মানে এই যে,
জাতিগত বা সময়গত
বিশেষ বিশেষ
উদ্দেশ্যে এই
পবিত্র
গ্রন্থটিতে অনেক
কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে।
শ্লোক রচনার গঠন
রীতির আধুনিকতা ও
প্রাচীনতা বিবেচনা করে এই
জাল
শ্লোকগুলো আলাদা করা খুব
কঠিন কিছু নয়।
আদি মনুসংহিতা শাস্ত্রটি অধ্যয়ন
করলে যে কেউ
গর্বভরে দাবি করতে পারবেন
যে,
পৃথিবীতে নারীকে মর্যাদা দানে মহর্ষি মনুর
মতো এতো চমৎকার
সব বিধান আর কোন
ধর্মনেতা কোন
কালেই প্রদান
করেননি।
এমনকি মনুসংহিতার
সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ
হতে হলে অনেক
ক্ষেত্রে আধুনিক
নারীবাদীদের
চিন্তাধারারও
উন্নয়নের প্রয়োজন।
এখানে অত্যন্ত
সংক্ষেপে মনুস্মৃতির
আলোকে বিষয়টা আলোচনা করা হলো।
আমরা এখন এমন
একটি শ্লোক পড়ব
যার অর্থ
দ্ব্যর্থহীনভাবে
ঘোষণা করে যে নারীরাই
হচ্ছে কোন উন্নত
সমাজের
ভিত্তিস্বরূপ।
এটি মনুসংহিতার
তৃতীয় অধ্যায়ের
(ধর্মসংস্কার
প্রকরণ) শ্লোকঃ
যত্র নার্য্যস্তু
পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র
দেবতাঃ।
যত্রৈতাস্তু ন
পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলা
ঃ ক্রিয়াঃ।।
(মনুসংহিতা ৩/৫৬)
অর্থাৎ
“যে সমাজে নারীদের
যথাযথ শ্রদ্ধা ও
সম্মান প্রদর্শন
করা হয় সেই সমাজ
উত্তরোত্তর
সমৃদ্ধি লাভ করে।
আর যারা নারীদের
যোগ্য সম্মান
করে না, তারা যতই
মহৎ কর্ম করুক
না কেন, তার সবই
নিষ্ফল হয়ে যায়।”
এটি নারীদের
প্রতি কোন
চাটুকারিতা বা তোষামদি নয়।
এটি এমন একটি সত্য
যা নারীবিদ্বেষীদের
কাছে বিষের মতো,
আর নারীশক্তির
মহিমা কীর্তনীয়াদের
কাছে অমৃতস্বরূপ।
প্রকৃতির এই নিয়ম
পরিবার, সমাজ,
ধর্মগোষ্ঠী,
জাতি বা সমগ্র
মানবতার
ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য।
যারা মনুস্মৃতিকে দোষারোপ
করেন, তারা কখনোই
এই শ্লোকের
উদ্ধৃতি দেন না।
উদ্দেশ্যপ্রণোদি
তভাবে শুধুমাত্র
হিন্দুধর্ম
সম্পর্কে কুৎসা প্রচারই
তাদের একমাত্র
কাজ। নিরপেক্ষ
বিচার তাদের
কাছে নেই। যেমন
নিচের চমৎকার
শ্লোকগুলোর
কথা কোন ব্লগার
বা হিন্দুধর্মের
সমালোচক উল্লেখ
করেন না:
“একজন পিতা, ভাই,
পতি বা দেবর
তাদের কন্যা, বোন,
স্ত্রী বা ভ্রাতৃবধুকে মৃদুবাক্য,
ভদ্র ব্যবহার ও
উপহারাদি দ্বারা খুশি ও
সন্তুষ্ট রাখবেন।
যারা যথার্থ
কল্যাণ ও
উন্নতি চান,
তারা নিশ্চিত
করবেন যে, তাদের
পরিবারের
নারীরা যাতে সর্বদা খুশী থাকেন
এবং কখনো দুর্দশা ভোগ
না করেন”।
(মনুসংহিতা ৩/৫৫)
“যে বংশে ভগিনী ও
গৃহস্থের
স্ত্রী (নারীকূল)
পুরুষদের কৃতকর্মের
জন্য দুঃখিনী হয়,
সেই বংশ অতি শীঘ্র
ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। আর
যে বংশে স্ত্রীলোকেরা সন্তুষ্ট
থাকে, সেই বংশ
নিশ্চিতভাবেই
শ্রীবৃদ্ধি লাভ
করে”।
(মনুসংহিতা ৩/৫৭)
ভেবে দেখুন,
পরিবারের সুখ-
শান্তি-সমৃদ ্ধির
জন্য এর চেয়ে বড়
কথা আর
কি হতে পারে?
এখানে পুরুষতান্ত্রিকত
া চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
নারীকে সর্বদা সুখী রাখতে হবে -
এটাই মহর্ষি মনুর
নির্দেশ।
“যে স্বামী তার
স্ত্রীকে সন্তুষ্ট
রাখে না, সে তার
সমগ্র পরিবারের
জন্য
দুর্দশা বয়ে আনে।
আর
যদি স্ত্রী পরিবারের
প্রতি সুখী থাকেন,
তবে সমগ্র পরিবার
শোভাময়
হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৩/৬২)
“যে বংশকে উদ্দেশ্য
করে ভগিনী, পত্নী,
পুত্রবধূ
প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা অনাদৃত,
অপমানিত
বা বৈষম্যের
শিকার
হয়ে অভিশাপ দেন,
সেই বংশ বিষপান
করা ব্যক্তি ন্যায়
ধন-পশু প্রভৃতির
সাথে সর্বতোভাবে বিনাশপ্রাপ্ত
হয়।” (মনুসংহিতা ৩/৫৮)
পুরুষতান্ত্রিক
যে সমাজে নারীনির্যাতন
নিত্যনৈমিত্তিক
ব্যাপার,
নারীকে যথেচ্ছা সম্ভোগ,
প্রহার
বা তাড়িয়ে দেওয়ার
বিধানও যে সমাজ
অনুমোদন করে, সেই
সমাজ যে ক্রমেই
বিনাশপ্রাপ্ত হবে -
এটাই
তো স্বাভাবিক।
বিশ্বের
প্রতিটি নারীর
ব্যক্তিগত জীবনের
সুরক্ষা,
নিরাপত্তা ও
সর্বাঙ্গীন মঙ্গলের
লক্ষ্যে, নারীর
অপমান ও বৈষম্যের
বিরুদ্ধে মহর্ষি মনু
যে দৃপ্ত
বাণী উচ্চারণ
করেছেন,
তাতে তো মনুকে বরং কট্টর
নারীবাদী বলেই
মনে হয়, তাই না?
“যারা ঐশ্বর্য
কামনা করে,
তারা স্ত্রীলোকদের
সম্মান প্রদর্শন
দ্বারা খুশী রাখবে এবং উত্তম
অলংকার, পোশাক ও
খাদ্যদ্বারা প্রীত
রাখবে।
স্ত্রীজাতিকে সর্বদা পবিত্র
হিসেবে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করবে।” (মনুসংহিতা ৩/৫৯)
শ্লোকটিকে খুব
নারীবাদী মনে হতে পারে,
তবে মহর্ষি মনু
মোটেও
পুরুষতান্ত্রিক
বা নারীবাদী কোনটাই
নন,
তিনি মানবতাবাদী।
মনে রাখবেন ‘মনু’
শব্দ থেকেই ‘মানব’
ও ‘মানবতা’ শব্দের
উৎপত্তি।
“স্ত্রী লোকেরা সন্তানাদি প্রসব
ও পালন করে থাকে।
তারা নতুন প্রজন্ম
বা উত্তরসুরির জন্ম
দেয়। তারা গৃহের
দীপ্তি বা প্রকাশস্বরূপ।
তারা সৌভাগ্য ও
আশীর্বাদ বয়ে আনে।
তারাই গৃহের
শ্রী।” (মনুসংহিতা ৯/২৬)
আজও
ভারতবর্ষে মহর্ষি মনুর
এই শ্লোক থেকেই
শিক্ষা নিয়ে মেয়েদের
‘ভাগ্যশ্রী’, ‘ঘরের
লক্ষ্মী’
বা ‘গৃহলক্ষ্মী’
বলা হয়।
“প্রজন্ম
থেকে প্রজন্মোন্তরে স্ত্রীরাই
সকল সুখের মূল।
কারণ, সন্তান
উত্পাদন, ধর্ম
পালন, পরিবারের
পরিচর্যা, দাম্পত্য
শান্তি এসব কাজ
নারীদের দ্বারাই
নিষ্পন্ন
হয়ে থাকে।” (মনুসংহিতা ৯/২৮)
অন্যকথায়, মাতৃরূপে,
কন্যারূপে,
স্ত্রীরূপে,
ভগ্নীরূপে কিংবা ধর্মকর্মে অংশীদাররূপে নারীরাই
সকল কল্যাণের মূল
উত্স বলে মহর্ষি মনু
প্রতিপাদন
করেছেন।
“পতি ও পত্নী মৃত্যু
পর্যন্ত
একসাথে থাকবেন।
তারা অন্য কোন
জীবনসঙ্গী গ্রহণ
করবেন
না বা ব্যাভিচার
করবেন না। এই
হলো নারী-পুরুষের
পরম
ধর্ম।” (মনুসংহিতা ৯/১০১)
“নারী ও পুরুষ
একে ভিন্ন
অপরে অসম্পূর্ণ।
এজন্য
বেদে বলা হয়েছে ধর্মকর্ম
পত্নীর
সাথে মিলিতভাবে কর্তব্য”।
(মনুসংহিতা ৯/৯৬)
এই শ্লোকটির
কথা একবার
ভেবে দেখুন।
নারী ছাড়া পুরুষ
অসম্পূর্ণ
একথা শুধুমাত্র
হিন্দুধর্মই
বলে থাকে।
নারী ছাড়া পুরুষের
ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ হয়
না। বৈদিক যজ্ঞ ও
ধর্মপালন স্বামী-
স্ত্রী যুগ্মভাবে করতে হয়,
কেউ
একাকী করতে পারেন
না। একারণেই
নারীকে বলা হয়
পুরুষের
‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও
‘সহধর্মিনী’।
উল্লেখ্য,
মনুসংহিতাই
একমাত্র ধর্মশাস্ত্র
যেখানে এই
বিখ্যাত
কথা দুইটি অনুমোদন
করা হয়েছে। সঙ্গত
কারণেই
হিন্দুধর্মে বিবাহবিচ্ছেদ
এবং বহুবিবাহ
করতে নিষেধ
করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অন্য
ধর্মে নারী পুরুষের
অর্ধাঙ্গিনীও নয়,
সহধর্মিনীও নয়। এই
কথা মানতে নারাজ
হলে একটি মাত্র
দৃষ্টান্ত দিচ্ছি-
মসজিদে নারী-পুরুষ
কি একসাথে নামাজ
পড়া সম্ভব?
এমনকি নিজ গৃহেও
স্বামী-
স্ত্রী কি একসাথে নামাজ
পড়তে পারেন?
স্বয়ং বিবেচনা করুন।
এবার নারীদের
স্বাতন্ত্রের কথায়
আসা যাক। স্মর্তব্য,
স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলা নয়,
স্বাতন্ত্র্য মানেই
ঔদ্ধত্য নয়।
“যে স্ত্রী দুঃশীলতা হেতু
নিজে আত্মরক্ষায়
যত্নবতী না হয়,
তাকে পুরুষগণ
ঘরে আটকে রাখলেও
সে ‘অরক্ষিতা’
থাকে। কিন্তু
যারা সর্বদা আপনা-
আপনি আত্মরক্ষায়
তত্পর, তাদের কেউ
রক্ষা না করলেও
তারা ‘সুরক্ষিতা’
হয়ে থাকে। তাই
স্ত্রীলোকদের
আটকে রাখা নিষ্ফল।
স্ত্রীজাতির
নিরাপত্তা প্রধানত
তাদের নিজস্ব
সামর্থ্য ও
মনোভাবের উপর
নির্ভরশীল।” (মনুসংহিতা ৯/১২)
এই
শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে,
নিরাপত্তার
নামে নারীকে ঘরে আটকে রাখা নিষ্ফল।
বিপরীতক্রমে তাকে নিরাপদ
রাখতে হলে তাকে অধিকার
দিতে হবে এবং সঠিক
শিক্ষা-
দীক্ষা প্রদান
করতে হবে। নারীর
সামর্থ্য ও
প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করতে হবে,
মানবিক বিকাশ
সাধনে তৎপর
হতে হবে, যার
ফলশ্রুতিতে তারা যেন
আত্মরক্ষায় তৎপর
থাকেন, নিজেদের
পরিপূর্ণ মানুষ
হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
নারী জাতি সম্পর্কে এই
হলো মহর্ষি মনুর
মতাদর্শ।
“নারী অপহরণকারীদের
মৃত্যুদণ্ড
হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩২৩)
“যারা নারী, শিশু ও
গুণবান পণ্ডিতদের
হত্যা করে, তাদের
কঠিনতম
শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৯/২৩২)
“যারা নারীদের
ধর্ষণ
করে বা উত্যক্ত
করে বা তাদের
ব্যাভিচারে প্ররোচিত
করে তাদের এমন
শাস্তি দিতে হবে যাতে তা অন্যদের
মধ্যে ভীতি সঞ্চার
করে এবং কেউ
তা করতে আর সাহস
না পায়।” (মনুসংহিতা ৮/৩৫২)
ইভটিজিং এখন
প্রধান
একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে,
যার বিরুদ্ধে কঠোর
কোন শাস্তির
ব্যবস্থা নেই। কিন্তু
ইভটিজিং, অপহরণ ও
ধর্ষণের
দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির বিধান
কিন্তু সেই মনুর যুগ
থেকেই প্রচলিত
ছিল।
“যদি কেউ মা,
স্ত্রী বা কন্যার
নামে মিথ্যা দোষারোপ
করে তবে তাকে শাস্তি দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/২৭৫)
অথচ নারীকে এই
মিথ্যা দোষারোপ
করেই প্রতিবছর
হাজার হাজার
নারীকে ‘অনার
কিলিং’ করা হয়।
অর্থাৎ হিন্দুধর্মের
বিপরীত বিধানও
অনেক
সমাজে প্রচলিত
আছে।
“যদি কেউ কোন
ন্যায়সঙ্গত কারণ
ছাড়া মা, বাবা,
স্ত্রী বা সন্তান
ত্যাগ করে,
তাকে কঠিন দণ্ড
দিতে হবে।” (মনুসংহিতা ৮/৩৮৯)
ভেবে দেখুন, পথে-
ঘাটে যত অনাথ শিশু
দেখেন, যত
নিশিকন্যা দেখেন,
যত পিতৃ-মাতৃতুল্য
বৃদ্ধ
বা বৃদ্ধাকে হাত
পেতে ভিক্ষা করতে দেখেন,
তাদের
মাঝে কতজনকে আপনি হিন্দু
দেখেছেন?
হিন্দুদের মানবিক
মূল্যবোধ অন্যদের
চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়
কি? নিজেই বিচার
করুন।
“যদি কোন
নারীকে সুরক্ষা দেবার
জন্য পুত্র বা কোন
পুরুষ
পরিবারে না থাকে,
অথবা যদি সে বিধবা হয়ে থাকে,
যে অসুস্থ অথবা যার
স্বামী বিদেশে গেছে,
তাহলে রাজা তার
নিরাপত্তা নিশ্চিত
করবেন। যদি তার
সম্পত্তি তার কোন
বন্ধু বা আত্মীয় হরণ
করে,
তাহলে রাজা দোষীদের
কঠোর
শাস্তি দেবেন
এবং সম্পত্তি ঐ
নারীকে ফেরত
দেবেন।” (মনুসংহিতা ৮/২৮-২৯)
অর্থাৎ নারীর
নিরাপত্তা বিধান
ও অধিকার
সংরক্ষণে দেশের
সরকারকেও
সদা তৎপর
থাকতে হবে।
“নববিবাহিতা বধূ,
কন্যা এবং গর্ভবতী মহিলাদের
অতিথি ভোজনের
পূর্বেই ভোজন
প্রদান
করতে হবে।” (মনুসংহিতা ৩/১১৪)
“বাহনে বা যানে আরোহী ব্যক্তির
পক্ষে বয়স্ক ব্যক্তি,
ক্লান্ত ব্যক্তি,
ভারবাহী ব্যক্তি,
বর, রাজা, স্নাতক
এবং স্ত্রীলোকদের
পথ
ছেড়ে দেয়া কর্তব্য।” (মনুসংহিতা ২/১৩৮)
এই মানবিক
ভদ্রতা জ্ঞানটুকু আর
কোন শাস্ত্রে আছে?
Ladies First
তত্ত্বটা কিন্তু
তাহলে বিদেশী নয়,
বরং ভারতীয়
রীতি বলেই
প্রতীয়মান হচ্ছে।
Friday, February 21, 2014
◄○কলিযুগ○►
কলিযুগের ব্যাপ্তিকাল ৪লক্ষ ৩২হাজার বছর । খ্রীস্টপূর্ব ৩১০১ এ কলিযুগের আরম্ভ হয় । বর্তমানে এযুগের ৫১১৩ বছর চলছে । দ্বাপরের অবসানে ব্রহ্মার পৃষ্ঠদেশ হতে অধর্মের সৃষ্টি হয় । কলিযুগের অবতার সমূহ-
•১→ বুদ্ধ অবতার । আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে জন্মগ্রহন করেন ।
•২→ কল্কি অবতার । (কল্কি অবতার কলিযুগের অন্তে মানে শেষের দিকে আর্বিভাব ঘটবে ।শম্ভল গ্রামে (মোরাদাবাদ জেলায় ) সুমতি নামে ব্রাহ্মণ কন্যার গর্ভে , বিষ্ণুযশা নামে ব্রাহ্মণের বাড়িতে , কল্কি নামে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতারের আর্বিভাব ঘটবে । কল্কি হবে বিষ্ণুযশা-সুমতির চতুর্থ সন্তান । বিষ্ণুযশা-সুমতির প্রথম তিন সন্তানের নাম হবে যথাক্রমে কবি, প্রাজ্ঞ আর সুমন্তক ।)
▓ কলিযুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ ▓
☯ কলিযুগের তিনপাদ অর্থাত্ চারভাগের তিন ভাগ অধর্ম ও একপাদ বা চারভাগের একভাগ মাত্র ধর্ম পালন করে ।
☯ কলিযুগের আয়ুষ্কাল ১০০বছর।
☯ মহারাজ পরীক্ষিতের সময় কলিযুগের শুরু হয়।
☯ ভাগবতে বলা আছে ছলনা মিথ্যা আলস্য নিদ্রা হিংসা দুঃখ শোক ভয় দীনতা প্রভৃতি হবে এযুগের বৈশিষ্ট।
☯ বিষ্ণু পুরাণ মতে কম ধনের অধিকারী হয়ে মানুষ এ যুগে বেশী গর্ব করবে ।ধর্মের জন্য অর্থ খচর করবে না ।
☯ ধর্মগ্রন্থের প্রতি মানুষের আর্কষন থাকবে না ।
☯ মাতাপিতাকে মানবে না । পুত্র পিতৃহত্যা বা পিতা পুত্র হত্যা করতে কুন্ঠিত হবে না ।
☯ কলিযুগের প্রধান গুন হচ্ছে মানুষ কম পরিশ্রমে বেশী পূণ্য অর্জন করবে ।
☯ দান করাই হবে কলিযুগের শ্রেষ্ঠ ধর্ম ।
☯ চৈতন্য মহাপ্রভুর মতে হরিনাম সংকীর্তনই হবে কলিযুগের একমাত্র ধর্ম ।
☯ বিষ্ণু পুরাণ (৬/১/৮) এর মতে-
• মানুষ বৈদিক ক্রিয়া আচার সমূহ করবে না ।
• ধর্মানুসারে কেউ বিবাহিত থাকবে না ।
• স্ত্রীলোকরা কেবল চুলের বাহদুরী করেই নিজেকে সুন্দরী বলে মনে করবে ।
• ধনহীন পতিকে স্ত্রীরা ত্যাগ করবে । আর ধনবান পুরুষরা সেই স্ত্রীগণের স্বামী হবে ।।
• কলিযুগে ধর্মের জন্য ব্যয় না করে কেবল গৃহাদি নির্মাণে অর্থ ব্যয় করবে ।
• মানুষ পরকালের চিন্তা না করে কেবল অর্থ উর্পাজনের চিন্তাতেই নিরন্তর নিমগ্ন থাকবে ।
• কলিযুগে নারীরা সাধারনতঃ স্বেচ্ছাচারিণী ও বিলাস উপকরণে অতিশয় অনুরাগিণী হবে এবং পুরুষরা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করতে অভিলাষী হবে ।
• সুহ্বদদের প্রার্থনাতে মানুষ নিজের অনুমাত্র স্বার্থ পরিত্যাগ করবেনা ।
• অসমর্থ মানুষরা ধনহীন হয়ে নিরন্তর দুর্ভিক্ষ ও ক্লেশ ভোগ করবে ।
• কলিকালে মানুষ স্নান না করে ভোজন করবে ।
• কলিকালে স্ত্রীলোকরা নিতান্তই লোভী হবে , বহু ভোজনশীল হবে ।
• স্ত্রীরা দুহাতে মাথা চুলকাতে চুলকাতে অনায়াসে পতি আজ্ঞা অবহেলা করবে । নিজের দেহ পোষণে ব্যস্ত থাকবে , নিরন্তন কঠোর ও মিথ্যা বাক্য বলবে ।
• আচারহীন ব্রাহ্মণপুত্ররা ব্রহ্মচারীর বেশ ধারন বেদ অধ্যয়ন করবে ।
• গৃস্থরা হোমাদি করবেন না এবং উচিত দানসমূহও প্রদান করবেন ।
• মানুষ অশাস্ত্রীয় তপস্যা করবে ।
• কলি কালে ৮থেকে ১০বছরের বালকেরা সহবাসে ৫থেকে ৭বছর বয়সের বালিকারা সন্তান প্রসব করবে ।
• মানুষ সর্বোচ্চ ২০ বছর বাঁচবে ।
• কলিকালে মানুষের বুদ্ধি অতি অল্প ,তাঁদের ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি অতিশয় কুত্ সিত ,তাদের অন্তকরণ অতিশয় অপবিত্র হবে । আর অল্প কালেই বিনাশ লাভ করবে । •
• যখন পাষন্ড লোকের প্রভাব অত্যন্ত বাড়বে , তখন সমাজের ভালো লোক কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকবে না । সজ্জনের হানি লক্ষিত হবে ।
• অল্প বৃষ্টি হবে, কলিকালে ফসল কম হবে ।
• কলিকালে মানুষ শ্বশুরের অনুগত হয়ে, কার মাতা কার পিতা এরকম কথা বলবে ।
• সুন্দরী স্ত্রী যার তার সাথে বন্ধুত্ব হবে , নিজ ভাইয়ের সাথে শত্রুভাব পোষন করবে ।
Monday, February 17, 2014
একাদশী ব্রত পালনের উপকারিতা
>1<একাদশী ব্রত পালনের উপকারিতা#
>শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তার লীলাবিলাসের প্রথম
থেকেই একাদশীর উপবাসের প্রথা প্রবর্তন
করেছিলেন।শ্রীল জীব গোস্বামী তার ভক্তি সন্দর্ভ
গ্রন্থে স্কন্দ পুরাণ
থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন,যে মানুষ একাদশীর দিন
পঞ্চশষ্য আহার করে,সে সেই খাদ্যের সাথে সাথে তার
পিতা,মাতা,ভাই,আত্নীয় স্বজন,ব্রাক্ষ্মণ এমনকি গুরু
হত্যার পাপও ভক্ষন করে।যদি বৈকুন্ঠলোকেও উন্নীত
হয়,তবুও তার অধঃপতন হয়।একাদশীর দিন বিষ্ণুর জন্য
সবকিছু রন্ধন করা হয়,এমনকি অন্ন এবং ডালও,কিন্তু
শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে,সে দিন বিষ্ণুর
প্রসাদ পর্যন্ত গ্রহন করা উচিত নয়।যে কোনো রকমের
শস্যদানা এমনকি অন্ন-তা যদি বিষ্ণু প্রসাদও হয়
তবুও তা গ্রহন করা কঠোর ভাবে নিষেদ করা হয়েছে।
**>বিধবা না হলেও শাস্ত্র অনুসারে একাদশীর ব্রত
পালন করার প্রথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তন
করেছিলেন।[দ্রষ্ঠব্য=শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত"আদিলীল
া{15/8-10}।ভক্তি সহকারে একাদশী পালন করলে সকল
যজ্ঞ ও সকল প্রকার ব্রতের ফল লাভ হয়।একাদশীর সময়
করণীয়>রাত্রী জাগরন,বেশী বেশী করে হরিকথা শ্রবন।
এবং যা যা নিষিদ্ধ>পরনিন্দা,পরচর্চা,মিথ্য
াকথা,ক্রোধ,দুরাচারী দর্শন একদম নিষিদ্ধ।
একাদশীতে ধান,গম,যব,ভূট্রা ও সরিষা জাতীয়
যাবতীয় খাদ্য বর্জনীয়।তাই আসুন আমরা আর সংসার
জীবের মানুষ আর কিছু না পারি,অন্তত এই একদিন
একাদশী ব্রত পালন করার চেষ্ঠা করি।
আমাদের উক্ত POST টি ভালো লাগলে সবার
সাথে শেয়ার করুন।
একাদশী কি ভাবে পালন করবেন?
১.সমর্থ
পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার ও
দ্বাদশীতে একাহার করিবেন। ২.তা হতে ও অসমর্থ
পক্ষে শুধুমাত্র একাদশীতে অনাহার।
৩.যদি উহাতেও অসমর্থ হন একাদশীতে পঞ্চরবিশষ্য
বর্জ্জন করতঃ ফল মূলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান
রহিয়াছে। সমর্থ পক্ষে রাত্রি জাগরনের
বিধি আছে গৌড়ীয় ধারায় বা মহান আচার্যবৃন্দের
অনুমোদিত পঞ্জিকায় যে সমস্ত
একাদশী নির্জলা (জল ব্যতীত) পালনের নির্দেশ
প্রদান করেছেন। সেগুলি সেমতে করলে সর্বোত্তম
হয়। নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে নিরাহার
থাকতে অপারগ হলে নির্জলাসহ অন্যান্য
একাদশীতে কিছু সবজি ফল মূলাদি গ্রহণ
করতে পারেন। যেমন – গোল আলু, মিষ্টি আলু ও চাল
কুমড়া, পেঁপে, টমেটো,
ফুলকপি ইত্যাদি সবজি ঘি অথবা বাদাম তৈল
দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার
করতে পারেন। হলুদ, লবন ও মরিচ ব্যবহার্য। আবার
অন্যান্য আহার্য যেমন – দুধ, কলা,আপেল, আঙ্গুর,
আনারস,আখ,আমড়া, শস্য, তরমুজ, বেল, নারিকেল,
মিষ্টি আলু, বাদাম ও লেবুর শরবত ইত্যাদি ফল
মূলাদিপেতে পারেন। স্মরণীয় একাদশীতে পাঁচ
প্রকার রবিশস্য গ্রহণ করতে নিষেধ
করা হইয়াছেঃ ১. ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য
যেমন – চাউল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস,খিচুড়ি,
চাউলের পিঠা, খৈ ইত্যাদি। ২. গম জাতীয় সকল
প্রকার খাদ্য যেমন – আটা,ময়দা,সুজি, বেকারীর
রুটি বা সকল প্রকার বিস্কুট, হরলিকস জাতীয়
ইত্যাদি। ৩. যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার
খাদ্য যেমন – ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি। ৪. ডাল
জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – মুগ, মাসকলাই,
খেসারী, মশরী, ছোলা, অড়হর,ফেলন, বরবটী ও শিম
ইত্যাদি। ৫. সরিষা তৈল, সয়াবিন তৈল, তিল তৈল
ইত্যাদি। উপরোক্ত পঞ্চ রবিশষ্য যে কোন
একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হবে।
উল্লেখ্য যারা সাত্তি¡ক আহাড়ী নন এবং চা, বিড়ি/
সিগারেট, পান, কফি ইত্যাদি নেশা জাতীয় গ্রহণ
করেন একাদশী ব্রত পালনের সময় কাল পর্যন্ত
ঐগুলি গ্রহণ না করাই ভাল।
একাদশী করলে যে কেবলমাত্র নিজের জীবনের
সদ্গতি হবে তা নয় একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা/
মাতা নিজ কর্মদোষে নরকবাসী হন তবে সেই পুত্রই
(একাদশী ব্রত) পিতা মাতাকে নরক থেকে উদ্ধার
করতে পারে। “ইন্দ্রিরা একাদশী” আশ্বিনের
কৃষ্ণা একাদশীর নাম। যদি কেহ কোন বিধি নিষেধ
পালন ছাড়া একাদশীর করার উদ্দেশ্যহীন
ভাবে (বাধ্যতামূলক) তিথিতে উপবাস থাকে ও
রাত্রি জাগরন করে তবে সে একাদশীর সম্পূর্ণ ফল
পাবে। একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন
নিজে নরকবাসী হবে অন্যকে ভোজন করালেও
নরকবাসী হবে। কাজেই একাদশী পালন
করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। একাদশী পারণ –
পঞ্জিকাতে একাদশী পারণের যে সময়
দেওয়া থাকে সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশষ্য
ভগবানের নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ
করা একান্তদরকার। নতুবা একাদশীর কোন ফল লাভ
হয় না। একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য
কেবল উপবাস করা নয়, নিরন্তর শ্রীভগবানের
স্মরণ, মনন ও শ্রবন কীর্ত্তনের মাধ্যমে একাদশীর
দিন অতিবাহিত করতে হয়। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের
একাদশীর দিন পঁচিশ মালা বা যতেষ্ট সময়
পেলে আরও বেশী জপকরার নির্দেশ দিয়েছেন।
একাদশী পালনের সময় পরনিন্দা, পরিচর্চা,
মিথ্যা ভাষন, ক্রোধ, দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস
সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
প্রশ্নঃ নমস্কার কি? নমস্কার কি সকলকে জানানো যায়? নমস্কার জানাতে হাত জোড় করা হয় কেন?
প্রশ্নঃ নমস্কার কি? নমস্কার
কি সকলকে জানানো যায়?
নমস্কার জানাতে হাত জোড় করা হয় কেন?
(শেয়ার
করে অন্যদের জানতে সাহায্য করুন)
উত্তর্ঃ ১>নমস্কার
বা নমস্তুতেবাঃ সংক্ষেপে নমস্তে হচ্ছে বৈদিক
হতে প্রচলিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কর্তৃক
ব্যবহৃত
অভিবাদনসূচক শব্দ। সাধারণত দুই হাত জোড়
করে 'নমস্কার' শব্দটি উচ্চারণ
করা হয়ে থাকে বলে একে অঞ্জলি মুদ্রা বা প্রণ
বলা হয়।
'নমস্কার' শব্দটি এসেছে মূল সংস্কৃত শব্দ
'নমঃ'থেকে যার
আভিধানিক অর্থ সম্মানজ্ঞাপনপূর ্বক অবনত
হওয়া।
২>ইদানিং সনাতন ধর্ম
বিরোধী নানা কুপ্রচারণার অংশ
হিসেবে একশ্রেণীর কুচক্রী মহল প্রচার
করে চলেছে যে ,
যেহেতু,নমস্কার শব্দটি অবনত হওয়ার
সাথে সংশ্লিষ্ট
তাই সাধারণ জনগণকে নমস্কার জানানো উচিত নয়
।
দেখা যাক,এ সম্পর্কে বৈদিক শাস্ত্র কি বলে !
"যো দেবো অগ্নৌ যো অপসু
যো বিশ্বং ভূবনাবিবেশ য
ওষধীষু যো বনস্পতি তস্মৈ দেবায়
নমো নমঃ॥"(শ্বেতাশ্ব
তর উপনিষদ ২-১৭)
"যোগ যেমন পরমাত্মার দর্শনের সাধন
বা উপায় ,নমস্কারাদিও অনুরূপ
বলিয়া তাঁহাকে নমস্কার
জানাই।''
তিনি কিরুপে?তিনি দেব অর্থাত্ পরমাত্মার
প্রকাশভাব ।
তিনি কোথায়? তিনি আছেন অগ্নিতে,জলে,তৃণ -
লতাদিতে,
অশ্বাথাদি বৃক্ষে,তিনি এই
বিশ্বভুবনে অন্তর্যামীরুপে অণুপ্রবিষ্ট
হইয়া আছেন।"
তাই যখন কাউকে নমস্কার জানানো হয় তখন মূলত
সর্বজীবে অন্তর্যামীরুপে অবস্থিত
পরমাত্মাকেই
প্রণতি নিবেদন করা হয় ,কোন মনুষ্যদেহকে নয়
।
সুতরাং,নমস্কার সকলকেই জানানো যায়।
৩>দুইহাত জোড় মূলত অহম্ ত্যাগ পূর্বক
বিনয়ভাব
প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সংস্কৃতিভেদে করজোড়ে কিছুটা বৈচিত্র্য
দেখা যায় যেমন
দেবতাদের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ সম্মান
প্রদর্শন
করতে সাধকরা মাথার উপরে দু'হাত জোড়
করে থাকেআবার
কোন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতে নমস্কার
জানাতে বুকের
বরাবর হাত জোড় করা একই
সাথে পরমাত্মাকে প্রণতি ও
আয়ুষ্মান (i.e.দীর্ঘায়ু কামনা) -কে নির্দেশ
করে।
নমস্কার, নমস্ক্রিয়া [ namaskāra,
namaskriẏā ] বি.
১. প্রণাম;
২. যুক্তকর কপালে ঠেকিয়ে অভিবাদন।
[সং. নমস্ + √ কৃ + অ, নমস্ + √ কৃ + অ + আ]।
নমস্কার সবাইকে। আপনারা চাইলে আর ও তথ্য যোগ
করতে পারেন।
শিব লিঙ্গ কি এবং কেন ?
শিব পূজা দু'রকম ভাবে হয় । শিব মূর্তি এবং শিব
লিঙ্গ।
লিঙ্গ শব্দের অর্থ প্রতীক বা চিহ্ন । যেমন-পুংলিঙ্গ,
স্ত্রী লিঙ্গ । লিঙ্গ শব্দের আরেকটি অর্থ হলো সূক্ষ
দেহ। এই দেহটিতে যুক্ত
আছে পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়,৫টি কর্মেন্দ্রিয় এবং ৫
টি প্রাণ অপান বায়ু ,মন ও বুদ্ধি-মোট ১৭ টি অবয়ব
যুক্ত দেহ। সকল সৃষ্টিরই সূক্ষ শরীর আছে। আমাদের
যখন মৃত্যু হয় তখন জীবাত্মা সূক্ষ শরীরে বিচরণ করেন
এবং পুনরায় দেহ ধারণ করেন। শিব রুদ্র ও মহাদেব
এই তিনটি নামই আমাদের মধ্যে বেশি পরিচিত।
যে সূক্ষ শরীরকে আমরা লিঙ্গ
বলে পূজা করি তা সৃষ্টির সূক্ষ শরীর প্রকৃতিতে বীজ
বপনরূপ সূক্ষ বিষয়টিকে দেখানো হয়েছে। যে সূক্ষ
শরীরে ১৭ টি গুণ নিয়ে অবস্থা করছেন তার পুনরায়
স্থুল দেহ ধারণ অন্যদিকে প্রকৃতিতে অর্থাৎ
মাটিতে বীজ বপণ কারণে বীজের সেই সূক্ষ এবং সুপ্ত
শক্তিই অংকুরিত হয়ে বৃক্ষাদি শস্যাদি রূপ ফল
আমাদের দেন। প্রত্যেক দেব-দেবীর বা সৃষ্টির এরূপ
সূক্ষ দেহ আছে, সেই দেহের আহ্ববান করি ঘটে,
পটে(ছবিতে), মূর্তিতে। শিবলিঙ্গও তদ্রুপ সৃষ্টির সূক্ষ
দেহ।
সাকার রূপে এরূপ লিঙ্গ শরীর বা চিহ্ন আমরা সর্বত্রই
ব্যবহার করি। যেমন; একটি দেশের পরিচয় বহন
করে একটি পতাকা। বিষ্ণুমন্ত্রের
যারা অনুসারী তাদের পরিচয় তারা দেন
দেহতে তিলক ফোঁটা অঙ্কিত করে।
ঘটে আমরা দেবদেবীর পুত্তলী এঁকে দেবতার চিহ্ন
বা প্রতীক বসাই। এরূপ দুটি প্রতীক বা লিঙ্গ
বা চিহ্ন আমরা পূজায় ব্যবহার করি। একটি শিব লিঙ্গ
আরেকটি নারায়ণ শিলা। শিব লিঙ্গের গঠন
প্রণালী সহজ হওয়ায় মূর্তি তৈরী থেকে লিঙ্গ পূজায়
আমরা আগ্রহী বেশি। মাটি দিয়ে অতি সহজে অল্প
সময়ে এ প্রতীক তৈরী করা যায়
এবং পূজান্তে বিসর্জনও দেয়া যায়। কিন্তু প্রতীকটির
নাম লিঙ্গ দেয়াতে আমাদের
মধ্যে যে বিভ্রান্তি গড়ে উঠেছে যা সত্যিই দু:খজনক।
অথচ একই প্রতীক ব্যবহৃত হচ্ছে নারায়ণ পূজায়,
তাঁকে নিয়ে এরূপ আচারণ আমরা করি না। বিশেষ
করে শিব-এর সঙ্গে সৃষ্টির কার্যক্রম যুক্ত
থাকাতে আমরা লিঙ্গ শব্দটিকে একেবারে পার্থিব
কাজের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছি। এ
বিভ্রান্তি থেকে আমাদের মুক্ত
হতে হবে এবং আমাদের শিবত্বে উন্নীত হতে হবে।
Tuesday, February 11, 2014
প্রশ্নঃ পড়ার পূর্বে বেদের কোন মন্ত্র পাঠ করতে হয় ?
উত্তরঃ
ওঁ
মেধাং মে বরুনো দদাতি মেধাগ্নিঃ প্রজাপতিঃ।
মেধামিন্দ্রশ্চ বায়ুশ্চ
মেধাং ধাতা দদাতি মে স্বাহা।।
যজুর্বেদ ৩২.১৫
অনুবাদ-
হে প্রকাশমান,প্রজা
পালক প্রভু,আমি যেন
মেধা প্রাপ্ত
হই,মেধাবুদ্ধি ধারন
করতে সক্ষম হই।
হে সর্বব্যপক
পরমাত্মা,আমি যেন
চরাচর জগতের সত্য-
অসত্য বিচারের
বিবেকযোগ্য বুদ্ধি ও
মেধা প্রাপ্ত হই।
Subscribe to:
Posts (Atom)
